বিদায় অনুষ্ঠান উপলক্ষে সমিতির ৩টি জোনাল অফিস, ১টি সাব জোনাল অফিস, ৩টি এরিয়া অফিস ও সবগুলো অভিযোগকেন্দ্রে কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছেন আয়োজকরা। নিম্ন শ্রেণির কর্মচারীরাও চাঁদা দেওয়া থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। সমিতির বরুড়া, কোম্পানীগঞ্জ, দেবিদ্বার এবং প্রধান কার্যালয় চান্দিনা’র একাধিক কর্মকর্তা, লাইনম্যান, মিটার রিডার এর সাথে কথা বলে এসব তথ্য ও অভিযোগ এর সত্যতা পাওয়া যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে লাইনম্যান ও মিটার রিডারা জানান, তাদের কাছ থেকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিদায় সংবর্ধনার নাম করে চাঁদা আদায় করেছেন। ম্যাসেঞ্জারদের কাছ থেকে ২শত, মিটার রিডারদের কাছ থেকে ৩শত, লাইনম্যানদের কাছ থেকে ৫শত টাকা, মিটার টেস্টার, বিলিং সহকারী, ক্যাশিয়ার এর কাছ থেকে ৫ শত, বিলিং সুপার ভাইজারদের কাছ থেকে ১হাজার, এজিএমদের কাছ থেকে ১হাজার ৫শত টাকা করে চাঁদা আদায় করেছে আয়োজকরা।
এব্যাপারে বাঙ্গরা সাব জোনাল অফিসের এজিএম মাহফুজুর রহমান এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন- ‘এবিষয়ে আপনি চান্দিনা কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন। আমি কিছুই জানি না।’ একপর্যায়ে তিনি বলেন- ‘আমাদের অবস্থা কন্যা দায়গ্রস্থ পিতার মত’।
চাঁদা উঠানোর বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ জোনাল অফিসের এজিএম (কম) লক্ষণ চন্দ্র পাল জানান- ‘এটা ইন্টারনাল বিষয়। এটা কি বলবো আপনাকে।’
চাঁদা উঠানোর বিষয়ে জানতে চাইলে সমিতির ডিজিএম মো. ছাদেক জামান বলেন- ‘চাকরি শেষ হলে সবাইকেই বিদায় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংবর্ধনা দেয়া হয়। এর জন্য কোন প্রাতিষ্ঠানিক বরাদ্দ থাকে না। ফেয়ার ওয়েল এর টাকাটা মানুষের সাহায্য সহযোগীতায় আসে। যে ব্যক্তি চাঁদাবাজীর অভিযোগ করেছে সে ভাল লোক না। আসলে অনুষ্ঠানের ডেকোরেশন, চেয়ার-টেবিল ও ইফতারের জন্য অনেক খরচ হবে। এজন্যই টাকা তুলা হচ্ছে। তবে কাউকে বাধ্য করে নয়। অনেকেইতো টাকা দেয়নি। যার মনে চায় সে দিবে, না হলে দিবে না। আমিও দিয়েছি।’
এব্যাপারে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মো. নজরুল ইসলাম খান বলেন- ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমার কোন চাওয়া-পাওয়া নেই। আমি বিদায় অনুষ্ঠানের পক্ষে না।’



No comments:
Post a Comment