সর্বশেষ

Sunday, October 2, 2016

কুমিল্লায় সন্তান সম্ভবার অ্যাম্বুলেন্সে হাজার বোতল ফেনসিডিল

দাউদকান্দি প্রতিনিধি: ভোরবেলা মেঘনা-গোমতি সেতুর টোল প্লাজায় রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি যখন থামানো হলো, তখন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কর্মকর্তারাও বিব্রত হলেন। রাজধানীমুখী অ্যাম্বুলেন্সটিতে 'সন্তানসম্ভবা' এক নারী 'প্রসব বেদনায়' কাতরাচ্ছিলেন, পাশের আসনেই উদ্বিগ্ন এক স্বজন। দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ারও তাড়া ছিল স্বজন আর অ্যাম্বুলেন্স চালকের। তবে নাছোড় সিআইডি টোল প্লাজার সারি সারি গাড়ির মধ্যে তল্লাশি করতে সেই অ্যাম্বুলেন্সটিই বেছে নিল! আগে থেকেই তথ্য থাকায় কোনো ছাড় দেননি পুলিশ কর্মকর্তারা। কৌতূহলীরা বিস্ময়ের সঙ্গে দেখলেন প্রসব
বেদনায় কাতরানো সেই নারী মোটেও সন্তানসম্ভবা নন। তার দেহজুড়ে বাঁধা ফেনসিডিলের বোতল।
সিআইডি কর্মকর্তারা বলছেন, ওই নারী সন্তানসম্ভবা সেজে অ্যাম্বুলেন্সে মূলত ফেনসিডিল পাচার করে। গতকাল শুক্রবার ভোরে ঢাকার সিআইডি মেঘনা-গোমতি সেতুর টোল প্লাজা থেকে রেবেকা নামের ওই নারী ও তার তিন সহযোগীকে আটক করেছে।
আটক তিনজন হলো_ বাদশা মিয়া, মামুন ও জামান। তাদের মধ্যে মামুন অ্যাম্বুলেন্স চালক, বাদশা ও জামান আটক নারীর স্বজন বেশে অ্যাম্বুলেন্সে ছিলেন। তাদের কাছ থেকে এক হাজার বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, মাদক ব্যবসায়ীরা অভিনব সব পদ্ধতিতে মাদক বহন করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দিচ্ছে। এবারই প্রথম মাদক বহনকারী কোনো নারীকে পাওয়া গেল; যে সন্তানসম্ভবা সেজে অ্যাম্বুলেন্সে ফেনসিডিল পাচার করছিল।
ওই অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া সিআইডির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এহসান উদ্দিন চৌধুরী সমকালকে বলেন, তাদের কাছে খবর ছিল রোগী সেজে অ্যাম্বুলেন্সে মাদক নিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করবে। ওই চক্রটিকে ধরতে তারা মেঘনা-গোমতি সেতুর টোল প্লাজা বেছে নেন। গতকাল ভোর সাড়ে ৫টার দিকে টোল প্লাজায় অ্যাম্বুলেন্সটি থামিয়ে সিআইডি সদস্যরাও বিব্রত হন। সেখানে সন্তানসম্ভবা একজন নারীকে কাতরাতে দেখে অ্যাম্বুলেন্সটি তল্লাশি ছাড়াই ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সেখানে রোগীর স্বজনরূপী বাদশার তাড়াহুড়া দেখে তাদের সন্দেহ গাঢ় হয়। এরপর তল্লাশি করে দেখা যায়, ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা নয়। ফেনসিডিল পাচার করতেই তারা ওই ধরনের নাটক সাজায়।
সিআইডি পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই চারজন জানিয়েছে, তারা কুমিল্লা থেকে ফেনসিডিলগুলো ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছিল। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে মাঝে-মধ্যেই অ্যাম্বুলেন্সে রোগী সাজিয়ে তারা মাদক বহন করে থাকে। এতে বারবার তারা সফল হলেও এবারই প্রথম পুলিশের নজরে পড়েছে। ভারত সীমান্ত থেকে এক ব্যক্তি ফেনসিডিলগুলো কুমিল্লায় পৌঁছে দেয়। ভারতীয় ওই ব্যক্তির বিষয়ে বিএসএফের কাছে তথ্য দেওয়া হবে।
সিআইডির আরেক কর্মকর্তা বলেন, আটক চারজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আজ শনিবার তাদের আদালতে পাঠিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে। সমকাল

No comments:

Post a Comment

Adbox