 |
| ভাংচুর করা ঘরের ্আসবাবপত্র |
সাদেক হোসেন: গত
বছরের ইউপি নির্বাচনের রেশ কাটেনি এই ইউনিয়নে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সহিংসতা
যেন থামতেই চায় না চান্দিনার মাইজখার ইউনিয়নে। এক বছরেরও অধিক সময় ধরে ওই ইউনিয়নে চলছে
হামলা-মামলা।পবিত্র মাহে রমজানের ইফতারের সময়ও যেন একটু প্রশান্তি নেই এই্ ইউনিয়নের
ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মনে। দা, রামদা, ছুরি নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন এখানকার বাসিন্দারা। অভিযোগের
তীর যেন দুই প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে। মাইজখার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ
সেলিম প্রধান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি জামাল উদ্দিন।আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যকার
সংঘর্ষ দীর্ঘদিনের। আর
পবিত্র রমজান মাসের ইফতারের
সময়ও থেমে নেই তাদের
এই নৈরাজ্য। দুই
গ্রুপের দ্বন্দ্বে প্রতিদিনই ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন মহল্লায় সংঘর্ষ অব্যাহত
রয়েছে। যার
শিকার হচ্ছে এলাকার সাধারণ
মানুষ।
 |
| মাটিতে পড়ে থাকা ইফতার সামগ্রী |
‘সারা
দিন রোজা রেখে সন্ধ্যায়
পবিত্র ইফতার নিয়ে পরিবারের
সাথে একত্রে বসেছিলাম। হঠাৎ
শুরু হয় বাড়ি-ঘর
ভাংচুর। মুহুর্তের
মধ্যেই ঘরের
দরজা ভেঙ্গে একাকার করে দেয়
সন্ত্রাসী বাহিনী। সামনের
ইফতার সামগ্রী কেড়ে নিয়ে ছুঁড়ে
ফেলে দেয়। এসময়
সন্ত্রাসী দল লাঠি দিয়ে হাটুঁতে আঘাত করলে মুর্হূতেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ি’- প্রতিবেদকরে
নিকট সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের এমন বর্ণনা করেন চান্দিনার মাইজখার ইউনিয়নের পানিপাড়া গ্রামের
বাসিন্দা ফাতেমা বেগম(৭০)।
নাম
প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুসলিম বাসিন্দা জানান, ইফতারের সময়ও নিরাপদ নয় এই ইউনিয়নের বাসিন্দারা।ছোটখাট
বিষয়কে কেন্দ্র করেই শুরু হয়ে যায় দু’গ্রুপের সংঘর্ষ।এক পক্ষ হামলা চালিয়ে চলে গেলে
পরে অন্য পক্ষ গিয়ে পাল্টা হামলা চালায়। এই হামলা-পাল্টা হামলায় কেউ চলে যান হাসপাতালে
আবার কেউ বাড়িছাড়া। হামলার পরপরই দু’পক্ষ ছুটে যান থানায় মামলা দায়েরের উদ্দেশ্যে।
এই হলো আমাদের ইউনিয়নের হালচাল। এমন করেই চলে আসছে গত এক বছর। দু’গ্রুপের মধ্যকার দ্বন্দ্ব
নিরসনের জন্য কেউ পদক্ষেপ নেন না।
জানা
যায়, গত সোমবার(২৯ মে) বিকেলে জামাল উদ্দিন
এর ভাই কামাল উদ্দিন
পথিমধ্যে সেলিম প্রধান এর
গিয়াস উদ্দিনকে মারধর
করে আহত করে।
ওই ঘটনার জের ধরে
সন্ধ্যায় ৩৫-
৪০ জনের
সন্ত্রাসী বাহিনী জামাল উদ্দিনের সমর্থকদের বাড়ি-ঘর ভাংচুর করে।
 |
| হামলায় ভেঙে যাওয়া টেলিভিশন |
এর আগে গত ২১ মে সেলিম প্রধান ও জামাল
উদ্দিনের সমর্থকদের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় উভয় গ্রুপের
সমর্থকেরা গুরুতর আহত হযে হাসপাতালে ভর্তি হয়।
সোমবারের ঘটনায়
চান্দিনা থানার অফিসার ইন
চার্জ মো. নাছির উদ্দিন
মৃধা জানান, ‘হামলার বিষয়ে শুনেই
ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি, এই
পর্যন্ত দুই জনকে আটক
করা হয়েছে; আইনানুগ ব্যবস্থা
গ্রহণ করা হবে।’
No comments:
Post a Comment